কাল বৃষ্টি পড়েছিলো । একে চমকবৃষ্টি বলে ছেড়ে দেওয়া ভালো । এর থেকেও আরো ভালো হয় যদি বিদ্যুতের ঘ্যানঘ্যানানি না শোনো । শোনার দরকার নেই যখন চমক সেরকম আর নেই ।
তুই বড্ড বেশি ঘ্যানঘ্যান করছিলিস, না ? ঠিক যেন মড়াবিদ্যুৎ ।
চোখে গাদাগুচ্ছের মেঘ জমা রাখার অনেক কারণ যে আছে তা বুঝি । খুব যে বুঝি তা নয় । প্লেনে বসে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে ভরা আকাশের মেঘরাজ্য থেকে সরে এসে তোর ওই মেঘস্য চোখদুটোকে আমার মুখের উপরে ফেলেছিলি, মনে আছে ?
এভাবে আবহবিদের মত বোকা বোকা বিশ্লেষণ করতে পারবো না তোর মনের ভিতরটা । এক্সট্রিমলি সরি !
ইশারায় বুঝিয়ে দিলো তার পিরিয়ড শুরু হয়েছে কাল মাঝরাত থেকে । সঙ্গে সঙ্গে বাইরের দিকে মুখ তুলে তাকালাম । চশমা কিন্তু রোদের নয় । তাকাতেও পারলাম না ।
চশমা মুছতে মুছতে ওকে জিজ্ঞেস করলাম, "তোমার তো হলো, অথচ প্রকৃতির এখনো কেন এমন অনিয়ম ?"
রাস্তায় একটা ক্ষণস্থায়ী ছায়া পেয়ে শুয়ে পড়েছে একটা কুকুর । মেঝেতে শুয়ে পড়লাম আমি । ওই কুকুরের মত চোখকান বুজে । কতক্ষণ বা শুয়ে থাকা যায় ?
কুকুরের গায়ে একটাও কাপড় নেই । ও-ই বেশি আরাম পাচ্ছে বোধ হয় ।
"বেশ হয়েছে ! বাঞ্চোৎ কোথাকার !" জিজা ঘোষের হয়ে আত্মপ্রসাদে ডুব দিচ্ছি । চান হয় নি এখনো । সারা গা থেকে বেরোচ্ছে আবেগের বিটকেল গন্ধ । ভুলে যাস না ভাই, ডিসক্রিমিনেশনের শিকার শুধু বর্ষা একা নয় ।
সেও জিজাদিদির মত দারুণভাবে ফাইটব্যাক করবে বৃষ্টিতে বৃষ্টিতে ।
No comments:
Post a Comment